ঢাকা থিয়েটারের তত্ত্বাবধায়নে ১৯৮২ সালে মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার তালুকনগর গ্রামে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার । বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের স্বপ্নদ্রষ্টা হলেন নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন, নাসির উদ্দিন ইউসুফ । তালুকনগর গ্রামের শাহ আজহার ওরফে আজাহার বয়াতীর মাঘীমেলাকে কেন্দ্র করে এর কার্যক্রম শুরু হয়। ঢাকা থিয়েটার মৌলিক নাটক মঞ্চায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। সেলিম আল দীন মানিকগঞ্জের সংস্কৃতি দেখে নিজের নাটক রচনার নতুন পথ খুঁজে পান। তার রচিত কিত্তনখোলা’র পটভূমি মানিকগঞ্জ। কিত্তনখোলা নাটকের মনাই বয়াতী মূলত শাহ আজহার। শাহ আজহারের মেলার হাল অবস্থার সাথে নিজের কল্পনা মিশিয়ে নাটকটি রচনা করেন সেলিম আল দীন। ১৯৮২ সালে সেলিম আল দীনের রচনায় ও নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর নির্দেশনায় ঢাকা থিয়েটার তালুকনগরে মঞ্চায়ন করে ‘সায়ফুলমূলুকের দইরা যাত্রা’ নামক নাটক। ১৯৮২ সালে গড়ে ওঠে গ্রাম থিয়েটারের প্রথম সংগঠন ‘তালুকনগর থিয়েটার’। সে বছর তালুকনগর থিয়েটার চৌকোণা খোলা মঞ্চে মঞ্চায়ন করে ‘চোর’ নাটক ও ঢাকা থিয়েটার মঞ্চায়ন করে সেলিম আল দীনের রচনায় ও নাসির উদ্দীন ইউসুফের নির্দেশনায় ‘বাসন’। দ্রুতই একে একে গড়ে ওঠে বংশাই থিয়েটার, গৌরাঙ্গী থিয়েটারসহ শতাধিক সংগঠন। শুরু থেকেই গ্রাম থিয়েটার আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিল বোধন-কুষ্টিয়া, বগুড়া থিয়েটার, সংলাপ-ফেণী প্রমুখ নাটকের দল। জাতীয় নাট্য আঙ্গিক নির্মাণের আকাঙ্খা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার। এই আকাঙ্খার প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে চৌকোণা খোলা মঞ্চ ব্যবহারকে উৎসাহিত করা হয়। এই মঞ্চ যাত্রার মঞ্চের মতই তবে এতে এক দিকের পরিবর্তে চার দিকে প্রবেশ ও নির্গমনের পথ থাকে।এরই ধারাবাহিকতায় বর্ণনাত্মক নাট্যরীতি ও বর্ণনাত্মক অভিনয় রীতি উদ্ভাবন করে ঢাকা থিয়েটার ও বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার। গ্রাম থিয়েটারের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ঐতিহ্যবাহী (লোক) সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও চর্চা অব্যাহত রাখার জন্য কাজ করা।